ইঁদুর কিভাবে বংশবিস্তার করে থাকে - ইঁদুর কী কী রোগের বাহক
পেজ সূচিপত্রঃ ইঁদুর কিভাবে বংশবিস্তার করে থাকে - ইঁদুর কী কী রোগের বাহক
ইঁদুর কিভাবে বংশবিস্তার করে থাকে
ইঁদুর কী কী রোগের বাহক
ইঁদুরের অবস্থান
ইঁদুরের স্বভাব
ইঁদুর এর উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা
বাড়ির যে স্থানগুলোতে ইঁদুর থাকতে পারে
চামচিকা ও বাদুড় কি একই প্রজাতির
পরিশেষে
ইঁদুর কিভাবে বংশ বিস্তার করে থাকেঃ
ইঁদুর অনেক বুদ্ধিমান প্রাণী বলা হয়ে থাকে। কিন্তু ইঁদুর কিভাবে বংশবিস্তার করে থাকে এর কিছু বিশেষ কারণের মধ্যে যেমন-নিরাপদ আশ্রয় এবং ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য খাদ্য মজুদ করতে না পারলে সাধারণত এরা গর্ভধারণ করেনা, কিম্বা করলেও মজুদ খাদ্যের পরিমানের উপর ভিত্তি করেই গর্ভধারণের সময় বাচ্চার সংখ্যা বেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এদের বংশ কমে গেলে বেশি বাচ্চা এবং বংশধর বেড়ে গেলে কম বাচ্চা নেওয়ার ক্ষমতাও বেশ আয়ত্ত করতে পারে যা মানব জাতিকে হার মানায়।
আরও পড়ুনঃ গরিব-অসবায়দের গোপনে দান করলে যে সওয়াব পাবেন
ইঁদুরের স্বভাব অবস্থান ও এর বংশবিস্তার করানোর ক্ষেত্রে এরা মাত্র ৩ মাসের একটি ইঁদুর গর্ভধারণ করতে পারে এবং একসাথে ৩-১৩টি পর্যন্ত বাচ্চা জন্ম দিতে পারে। অর্থাৎ এক জোড়া ইঁদুর ১২ মাসে ১২৫০টি নতুন ইঁদুরের জন্ম দিয়ে থাকে। এ ছাড়াও এদের গর্ভধারণকাল ১৯-২২ দিন, বছরে এরা ৫-১০ বার পর্যন্ত গর্ভধারণ করতে পারে। আর যদি বাচ্চা প্রসবের পর অনুকূল পরিবেশ পাই, তাহলে ৪৮ ঘন্টা পর পুনরায় গর্ভধারণ করতে পারে। অর্থাৎ উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এক জোড়া ইঁদুর থেকে বছরে প্রায় ৩০০০ নতুন ইঁদুরের বংশবিস্তার ঘটানো সম্ভব।
সুতরাং, মানুষের সাথে এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের মিল থাকার কারণে একদিকে যেমন এটি আমাদের জন্য ক্ষতিকারক প্রজাতী আবার অন্যদিকে চিকিৎসার গবেষণা সংক্রান্ত কাজে এটি অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এর প্রভাব থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া যেতে পারে, যেমন-বাসায় অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র একসাথে স্তুপ করে না রাখা, বাড়ির আশেপাশে ঘন ঝোপ-জঙ্গল না রাখা, বই-খাতাপত্র যেখানেই রাখা হোক না কেন, তা যেন পরিস্কার করার মত ফাঁকা জায়গা রাখা, খাবার-দাবার উন্মুক্ত না রেখে তা যথাস্থানে এবং ঢেকে রাখা ইত্যাদি। আসলে আমরা সবাই জানি তবুও একটু সচেতন হলে এর থেকে কিছুটা হলেও পরিত্রাণ মিলতে পারে। ইঁদুরের স্বভাব অবস্থান ও এর বংশবিস্তার - ইঁদুর কী কী রোগের বাহক বিষয়টি থেকে যদি কিছু উপকার বা জানার ভান্ডারে নতুন কিছু সংযোজন ঘটে, তাহলে অবশ্যই তা অন্যদের মাঝে শেয়ার করুন।
ইঁদুর কী কী রোগের বাহকঃ
ইঁদুরের অবস্থানঃ
ইঁদুর কিভাবে বংশবিস্তার করে থাকে বিষয়ক আলোচনায় বলা যেতে পারে, আসলে ইঁদুরের অবস্থান সর্বত্রই। তবে মানুষ যেখানে বসবাস করে সেটা ছাড়াও মাঠে, গাছে এবং সর্বোপরি মাটিতে গর্ত খুড়েও এরা বসবাস করে থাকে। তবে যে সমস্ত জায়গায় খাবার ও পানি কাছাকাছি পাওয়া যায়, ঠিক এমনই স্থান ইঁদুরের পছন্দ।
ইঁদুরের স্বভাবঃ
ইঁদুরের দাঁত বড় হয়ে মারা যাবার ভয়ে সবসময়ই এরা দাঁত দিয়ে কিছু না কিছু কাটতেই থাকে। শুধুমাত্র এই কারণেই আমরা আমাদের বাড়িতে লেপ, তোষক, কাগজ-পত্র, তরিতরকারি, সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, সর্বোপরি অনেক মূল্যবান দলিল-দস্তাবেজসহ বিভিন্ন ধরণের জিনিসপত্রও ইঁদুর-এর দন্ত প্রাকটিসের কারণে টুকরা-টুকরা পেয়ে থাকি।
ইঁদুরের বিচিত্র জীবন সম্পর্কিত তথ্যাবলী এবং এর রহস্য উদঘাটনে শুধুমাত্র ইঁদুর এর উপরেই পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো করা হয় কেন? অর্থাৎ এর যথাযথ কারণ জানতে হলে নিচের বর্ণনাটি অবশ্যই পড়তে হবে।
ইঁদুর এর উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষাঃ
মূলত ইঁদুর অত্যন্ত ছোট প্রাণী হওয়ার কারণে এদেরকে খুব সহজেই পরিচালন, বহণ এবং এদর উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো সহায়ক হয়ে থাকে। এ ছাড়াও অন্যান্য বৈশিষ্টের কারণেও এর উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় প্রাণীটিকে বিভিন্ন প্রকার অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে চাপ দেয়া হয়, যা প্রাণীটির জন্য হতে পারে অনেক বেশি বিরক্তিকর, উত্তেজক বা কষ্টদায়ক। বলাবাহুল্য যে, ইঁদুরের উৎপাদন ক্ষমতা দুর্দান্ত। অন্য প্রাণীদের তুলনায় এরা খুব দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করতে পারে। আসলে এই প্রাণীটি খুব কম সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকে। শুধুমাত্র এ কারণে অল্প সময়ের মধ্যে এদের উপর বিভিন্ন জেনারেশনে পরীক্ষা করা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুনঃ মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে স্থানগুলি দেখা যায়
মানুষের সাথে ইঁদুরের বৈশিষ্ট্যের উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া যায় বলে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় ইঁদুর ব্যবহার করা হয়। ইঁদুরের স্বভাব অবস্থান ও এর বংশবিস্তার ছাড়াও আশ্চর্যজনক ভাবে সত্য যে মানুষের সাথে ইঁদুরের ৯০% জিনগত মিল পাওয়া যায়। একারণেই মানুষের বিভিন্ন প্রকার জিনের মিথস্ক্রিয়ার প্রকৃতির পরীক্ষার জন্য মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে ইঁদুর। এছাড়াও মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সাথেও ইঁদুরের অঙ্গের বা তন্ত্রের মিল পাওয়া যায়। এজন্যই মানুষের শরীরে বিভিন্ন প্রকার ঔষধের প্রভাব নির্ণয় করা যায়।
আসলে ইঁদুর জিনগত ভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তবে অবাক হলেও সত্য যে,, ইঁদুরের নির্দিষ্ট জিনকে কিন্তু বন্ধ বা খুলে রাখা যায়। আর এর ফলে কি পরিবর্তন হয় তা পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়। আবার বিপরীত জিন সম্বলিত এই ধরণের ইঁদুরকে ’নকআউট ইঁদুর’ বলা হয়। কিভাবে নির্দিষ্ট জিন নির্দিষ্ট রোগের জন্য দায়ী তা নির্ণয়ে এই প্রকার ইঁদুর ভীষণ ভাবে কাজে দেয়।
আরেক ধরণের ইঁদুর আছে যাদের ট্রান্সজেনিক ইঁদুর বলা হয়। বাহির থেকে DNA এদের শরীরে প্রবেশ করানোর পরে প্রজনন করানো হয়। মানুষের যন্ত্রণাদায়ক রোগের ম্যাপিং মডেল তৈরিতে সাহায্য করে এই ইঁদুর।
বাড়ির যে স্থানগুলোতে ইঁদুর থাকতে পারেঃ
ইঁদুর সাধারণত অন্ধকারে, লুকিয়ে এবং সর্বোপরি খাবার-দাবারের কাছাকাছি থাকতে বেশি পছন্দ করে। এ ছাড়াও দেয়ালের ফাঁকে, ছাদের কোণে, ঘরের মেঝের নিচের স্থানে, ফাইল ক্যাবিনেট বা আলমারীর ভেতরে, রান্নাঘরের পায়খানা বা সিঙ্কের নিচে, বাড়ির চারপাশের ঝোপঝাড়বা আবর্জনার স্তুপ বা বাগানেও বাসা বেঁধে থাকে, এ ছাড়াও গ্যারেজ বা স্টোররুম, ভেন্টিলেশন বা পাইপ লাইনের চারপাশে ফাঁকা জায়গা, সোফা, আলমারী বা খাঁটের নীচে অথবা পেছনেও লুকিয়ে থাকে। মোটকথা এমন কোন জায়গা নাই, যেখানে ইঁদুর থাকতে পারে না বা যাওয়া-আসা করতে পারে না।
চামচিকা ও বাদুড় কি একই প্রজাতিরঃ
আসলে চামচিকা ও বাদুড় নিয়ে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করে থাকেন। অনেকেই বলে যে, দুটো প্রাণীই আলাদা গোত্রের বা আলাদা জাতের। কিন্তু প্রকৃত সত্য হরো যে, চামচিকা আর বাদুড় হচ্চে একই পরিবারের সদস্য। অর্থাৎ চামচিকা হচ্ছে বাদুড় পরিবারের ক্ষুদ্র সদস্য। তবে চামচিকা ও বাদুড়ের বৈশিষ্ট্য হলো পৃথিবীর একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে উড়তে পারা। সাধারণত চামচিকা পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, অন্যদিকে বাদুড় ফল খেয়ে পরাগায়নে সাহায্য করে থাকে, অর্থাৎ উভয়ই নিশাচর এবং স্তন্যপায়ী প্রাণী। আবার উভয় প্রাণীই অন্ধকারে পথ চলতে এবং শিকার ধরতে এরা কিন্তু নিজেদের তৈরি শব্দ তরঙ্গের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে থাকে।
ইঁদুর কিভাবে বংশবিস্তার করে থাকে - ইঁদুর কী কী রোগের বাহক-পরিশেষেঃ
আরও পড়ুনঃ রিজিক সম্পর্কে কোরআনের আয়াত

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url